কম্পিউটার
নিয়ে আমার অনেক অনেক স্মৃতি। একটা পার্সোনাল কম্পিউটারের স্বপ্নে বিভোর
ছিলাম কম্পিউটার জিনিসটা দেখার পর থেকেই। আমার এসএসসি পরীক্ষা যেদিন শেষ হল
সেদিন বাসায় এসে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাপ্রাইজড হলাম। দেখলাম জীবনের সবচেয়ে
আকাঙ্খিত বস্তু কম্পিউটার আমাদের বাসায়। নিডি ফ্যামিলির ছিলাম, এত দ্রুত
কম্পিউটারের প্রত্যাশা ছিলনা।
আমার কম্পিউটারে তখন ওপারেটিং সিস্টেম ছিল উইন্ডোজ ৯৮! প্রসেসর সেলেরন, 600 MHz! র্যাম ৬৪ এমবি! লোল! পরে অনেক কষ্টে টাকা জোগার করে আরেকটা ৬৪ র্যাম কিনে দুইটা মিলে ১২৮ এমবি। হার্ডডিস্ক ৪০ জিবি। এই পিসিতেই ইউজ করছি উইন্ডোজ ২০০০, মিলেনিয়াম, উইন্ডোজ এক্সপি আরো পরে। এখনো আমার প্রিয় অপারেটিং সিস্টেমের তালিকায় উইন্ডোজ ৯৮ আর এক্সপি।
ঐ সময় ঘন ঘন ওয়ালপেপার চেইঞ্জ করতাম। ওয়ালপেপার কালেক্ট করতাম। আলাদা ফোল্ডার থাকতো শুধুমাত্র ওয়ালপেপারের জন্য। উইন্ডোজ ৯৮ এর উইন্ডোজ ওয়ালপেপার আর এক্সপির পিংক কালারের জানালা ওয়ালপেপারটা বেশি ব্যবহার করতাম।
পিসি কেনার পর থেকে প্রায় প্রতিদিন পিসি সেটাপ দিতে হতো। কী জানি কী করতাম পিসি আর অন হইতো না। বারবার একটা বিরক্তিকর লেখা উঠতো,
Boot disk failure Insert System Disk and Then Press Enter.
জীবনে এই লাইনটা এতবার দেখছি যার কারনে এটা এখন পর্যন্ত আমার জন্য সবচেয়ে বিরক্তির লাইন। পাশের বাসা থেকে সঞ্জীব ভাইকে ডেকে আনতাম। সঞ্জীব ভাই সেটাপ দিয়ে দিতো আর বলতো, 'খবরদার তুই c ড্রাইভে ঢুকবিনা আর কিছু Delete করবিনা। আমি কিছু ডিলিট করতাম না, সি ড্রাইভেও ঢুকতাম না তবুও কেন জানি আমার সেটাপ নষ্ট হয়ে যেত (না মানে ইয়ে চুপ করে ঢুকতাম বোধ হয়)।
ফ্লপি ডিস্ক ছিল। এখন অনেকেই চিনবেনা। ফ্লপি ডিস্ক আমার অসম্ভব ভাল লাগতো। এত কিউট ডিস্ক আর দেখিনাই। ছোট ডক ফাইল সংরক্ষন এবং ট্রান্সফারের জন্য ফ্লপি ড্রাইভ ইউজ করতাম। এর আরো পরে একটা ১২৮ মেগা বাইটের পেনড্রাইভ কিনছিলাম। হুম ঠিকই দেখছেন, ১২৮ মেগাবাইট!
পিসি কিনে আমার প্রথম প্রিয় গেইম ছিল Roadrash। এই গেইম খেলার সবচেয়ে বড় মজা পুলিশকে লাথি মারা। আরেকটা গেইম প্রচুর খেলতাম, Dx Ball। এই গেইমটা কেন ভাল্লাগতো তা এখনো বুঝিনা। আরো পরে Virtual Cop, Nfs, aladin, lion king, herculics এসব খেলছি।
তখন অডিও গান শোনার জন্য ব্যবহার করতাম Winamp Player। এই প্লেয়ারের স্ক্রিন চেইঞ্জ করতাম মজার মজার। তবে এই প্লেয়ারের সবচেয়ে বড় সমস্যা এইটা হঠাৎ কোথায় টিপতে না টিপতেই চিকন বার হয়ে যেত। পড়ে সেটাকে বড় স্ক্রিন করা মুশকিল ছিল। ভিডিও প্লেয়ার হিসেবে Hero Soft ছিল ফার্স্ট চয়েস, সেকেন্ড চয়েস Jet Audio। Hero দিয়ে মুভি থেকে গান কেটে নিতাম।
একদিন Winamp এ গান প্লে করছিলাম। তারপর ঐটা বন্ধ না করেই Jet Audio তেও গান প্লে করছি। দুইটা গান একসাথে বাজা শুরু করছে। আমি ভয় পাইছি। ভাবছি পিসি নষ্ট করে ফেলছি। তারপর এক দৌড়ে সঞ্জীব ভাইয়ের বাসায় গেছি। 'ভাই পিসি নষ্ট করে ফেলসি', সঞ্জীব ভাই কুল মানুষ। এসে ঠিক করে দিয়ে গেছে।
নতুন পিসির সাথে পঙ্কজ উদাসের মিউজিক ভিডিও ছিল। অসাধারন। চান্দনি যেয়সা রঙ হে তেরা, চিট্ঠি আয়িহে, সরাব ই চিজ ই হে এইসি গানগুলো বেশি শুনতাম। আমার পিসির সাথে আরেকটা মিউজিক ভিডিও দিছিল আনু মালিকের, ধোঁয়া ধোঁয়া হো রাহা হে... কিউট কচ্ছোপের বাচ্চাটা ভাল্লাগতো। জেমস, বাচ্চু, হাসানের সব এ্যালবাম সংগ্রহে ছিল।
বেশকিছু ফান ভিডিও ছিল। নেংটু মিয়ার অভিযান, বাসে একদিন, বেয়াক্কেল ইত্যাদি ফান ভিডিওগুলো অনেক স্মৃতিবিজরিত।
তখন কার্সর চেইঞ্জ করতাম। কার্সরটারে কখনো কলম, কখনো ঘোরা, কখনো ফুল ইত্যাদি বানাইতাম। ফোল্ডার কাস্টমাইজ করে ফোল্ডারে নিজের ছবি ইনসার্ট করতাম। অডিও ফোল্ডারে স্পিকারের আইকন, ভিডিও ফোল্ডারে ডিস্কের আইকন, অফিসিয়াল ডকের ফোল্ডারে ডব্লিউ আইকন ব্যবহার করতাম। অডিও, ভিডিও আর গেইমসের আলাদা ড্রাইভ রিনেইম করে সবকিছু গুছিয়ে রাখতাম।
সারাদিনে কয়েকবার থিম চেইঞ্জ করতাম। দারুন দারুন সব থিম সংগ্রহে ছিল। বিভিন্ন সফটওয়ার মাঝে মাঝেই আনইনস্টল হয়ে যেত। ক্লিক করলেই সোর্স চাইতো। এটা ছিল বিগ প্রব্লেম। তবে সমস্যা নাই, আমার ছিল কুউউল সঞ্জীব ভাই।
ছোট ছোট ফ্ল্যাশের ক্লিপ ছিল। একটা টকিং ক্লক ছিল। বাচ্চা একটা মেয়ে আধ ঘন্টা পর পর বলতো, 'এখন সময় রাত ২ টা বেজে ১৫ মিনিট'। শুনতে ভাল্লাগতো, এটা এখনও আছে কিন্তু বিরক্ত লাগে।
এখন নিজের ল্যাপটপ আছে কিন্তু আগের সেই ফ্যান্টাসী নাই। গেইমস জীবনেও খেলতে ইচ্ছে করেনা। ভিডিও দেখা বা গান শোনা সব ইউটিউবেই। এখন আর সেটাপ নষ্ট হয়না সহজে। কালেভদ্রে নষ্ট হলেও আমি নিজেই সেটাপ দিতে পারি তাই সঞ্জীব ভাইয়ের সাথেও যোগাযোগ নেই দীর্ঘদিন।
অনেকেই এক্স গার্লফ্রেন্ড নিয়ে স্মৃতিচারন করে। আমি আমার এক্স পিসি নিয়ে স্মৃতিচারন করলাম। হুম, এখন পর্যন্ত ঐ সেলেরন পিসিটাই আমার যেকোন গার্লফ্রেন্ডের চেয়ে আমার সাথে বেশিদিন ছিল আর সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট দিয়েছিল।
আমার কম্পিউটারে তখন ওপারেটিং সিস্টেম ছিল উইন্ডোজ ৯৮! প্রসেসর সেলেরন, 600 MHz! র্যাম ৬৪ এমবি! লোল! পরে অনেক কষ্টে টাকা জোগার করে আরেকটা ৬৪ র্যাম কিনে দুইটা মিলে ১২৮ এমবি। হার্ডডিস্ক ৪০ জিবি। এই পিসিতেই ইউজ করছি উইন্ডোজ ২০০০, মিলেনিয়াম, উইন্ডোজ এক্সপি আরো পরে। এখনো আমার প্রিয় অপারেটিং সিস্টেমের তালিকায় উইন্ডোজ ৯৮ আর এক্সপি।
ঐ সময় ঘন ঘন ওয়ালপেপার চেইঞ্জ করতাম। ওয়ালপেপার কালেক্ট করতাম। আলাদা ফোল্ডার থাকতো শুধুমাত্র ওয়ালপেপারের জন্য। উইন্ডোজ ৯৮ এর উইন্ডোজ ওয়ালপেপার আর এক্সপির পিংক কালারের জানালা ওয়ালপেপারটা বেশি ব্যবহার করতাম।
পিসি কেনার পর থেকে প্রায় প্রতিদিন পিসি সেটাপ দিতে হতো। কী জানি কী করতাম পিসি আর অন হইতো না। বারবার একটা বিরক্তিকর লেখা উঠতো,
Boot disk failure Insert System Disk and Then Press Enter.
জীবনে এই লাইনটা এতবার দেখছি যার কারনে এটা এখন পর্যন্ত আমার জন্য সবচেয়ে বিরক্তির লাইন। পাশের বাসা থেকে সঞ্জীব ভাইকে ডেকে আনতাম। সঞ্জীব ভাই সেটাপ দিয়ে দিতো আর বলতো, 'খবরদার তুই c ড্রাইভে ঢুকবিনা আর কিছু Delete করবিনা। আমি কিছু ডিলিট করতাম না, সি ড্রাইভেও ঢুকতাম না তবুও কেন জানি আমার সেটাপ নষ্ট হয়ে যেত (না মানে ইয়ে চুপ করে ঢুকতাম বোধ হয়)।
ফ্লপি ডিস্ক ছিল। এখন অনেকেই চিনবেনা। ফ্লপি ডিস্ক আমার অসম্ভব ভাল লাগতো। এত কিউট ডিস্ক আর দেখিনাই। ছোট ডক ফাইল সংরক্ষন এবং ট্রান্সফারের জন্য ফ্লপি ড্রাইভ ইউজ করতাম। এর আরো পরে একটা ১২৮ মেগা বাইটের পেনড্রাইভ কিনছিলাম। হুম ঠিকই দেখছেন, ১২৮ মেগাবাইট!
পিসি কিনে আমার প্রথম প্রিয় গেইম ছিল Roadrash। এই গেইম খেলার সবচেয়ে বড় মজা পুলিশকে লাথি মারা। আরেকটা গেইম প্রচুর খেলতাম, Dx Ball। এই গেইমটা কেন ভাল্লাগতো তা এখনো বুঝিনা। আরো পরে Virtual Cop, Nfs, aladin, lion king, herculics এসব খেলছি।
তখন অডিও গান শোনার জন্য ব্যবহার করতাম Winamp Player। এই প্লেয়ারের স্ক্রিন চেইঞ্জ করতাম মজার মজার। তবে এই প্লেয়ারের সবচেয়ে বড় সমস্যা এইটা হঠাৎ কোথায় টিপতে না টিপতেই চিকন বার হয়ে যেত। পড়ে সেটাকে বড় স্ক্রিন করা মুশকিল ছিল। ভিডিও প্লেয়ার হিসেবে Hero Soft ছিল ফার্স্ট চয়েস, সেকেন্ড চয়েস Jet Audio। Hero দিয়ে মুভি থেকে গান কেটে নিতাম।
একদিন Winamp এ গান প্লে করছিলাম। তারপর ঐটা বন্ধ না করেই Jet Audio তেও গান প্লে করছি। দুইটা গান একসাথে বাজা শুরু করছে। আমি ভয় পাইছি। ভাবছি পিসি নষ্ট করে ফেলছি। তারপর এক দৌড়ে সঞ্জীব ভাইয়ের বাসায় গেছি। 'ভাই পিসি নষ্ট করে ফেলসি', সঞ্জীব ভাই কুল মানুষ। এসে ঠিক করে দিয়ে গেছে।
নতুন পিসির সাথে পঙ্কজ উদাসের মিউজিক ভিডিও ছিল। অসাধারন। চান্দনি যেয়সা রঙ হে তেরা, চিট্ঠি আয়িহে, সরাব ই চিজ ই হে এইসি গানগুলো বেশি শুনতাম। আমার পিসির সাথে আরেকটা মিউজিক ভিডিও দিছিল আনু মালিকের, ধোঁয়া ধোঁয়া হো রাহা হে... কিউট কচ্ছোপের বাচ্চাটা ভাল্লাগতো। জেমস, বাচ্চু, হাসানের সব এ্যালবাম সংগ্রহে ছিল।
বেশকিছু ফান ভিডিও ছিল। নেংটু মিয়ার অভিযান, বাসে একদিন, বেয়াক্কেল ইত্যাদি ফান ভিডিওগুলো অনেক স্মৃতিবিজরিত।
তখন কার্সর চেইঞ্জ করতাম। কার্সরটারে কখনো কলম, কখনো ঘোরা, কখনো ফুল ইত্যাদি বানাইতাম। ফোল্ডার কাস্টমাইজ করে ফোল্ডারে নিজের ছবি ইনসার্ট করতাম। অডিও ফোল্ডারে স্পিকারের আইকন, ভিডিও ফোল্ডারে ডিস্কের আইকন, অফিসিয়াল ডকের ফোল্ডারে ডব্লিউ আইকন ব্যবহার করতাম। অডিও, ভিডিও আর গেইমসের আলাদা ড্রাইভ রিনেইম করে সবকিছু গুছিয়ে রাখতাম।
সারাদিনে কয়েকবার থিম চেইঞ্জ করতাম। দারুন দারুন সব থিম সংগ্রহে ছিল। বিভিন্ন সফটওয়ার মাঝে মাঝেই আনইনস্টল হয়ে যেত। ক্লিক করলেই সোর্স চাইতো। এটা ছিল বিগ প্রব্লেম। তবে সমস্যা নাই, আমার ছিল কুউউল সঞ্জীব ভাই।
ছোট ছোট ফ্ল্যাশের ক্লিপ ছিল। একটা টকিং ক্লক ছিল। বাচ্চা একটা মেয়ে আধ ঘন্টা পর পর বলতো, 'এখন সময় রাত ২ টা বেজে ১৫ মিনিট'। শুনতে ভাল্লাগতো, এটা এখনও আছে কিন্তু বিরক্ত লাগে।
এখন নিজের ল্যাপটপ আছে কিন্তু আগের সেই ফ্যান্টাসী নাই। গেইমস জীবনেও খেলতে ইচ্ছে করেনা। ভিডিও দেখা বা গান শোনা সব ইউটিউবেই। এখন আর সেটাপ নষ্ট হয়না সহজে। কালেভদ্রে নষ্ট হলেও আমি নিজেই সেটাপ দিতে পারি তাই সঞ্জীব ভাইয়ের সাথেও যোগাযোগ নেই দীর্ঘদিন।
অনেকেই এক্স গার্লফ্রেন্ড নিয়ে স্মৃতিচারন করে। আমি আমার এক্স পিসি নিয়ে স্মৃতিচারন করলাম। হুম, এখন পর্যন্ত ঐ সেলেরন পিসিটাই আমার যেকোন গার্লফ্রেন্ডের চেয়ে আমার সাথে বেশিদিন ছিল আর সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট দিয়েছিল।